নিজস্ব প্রতিবেদক :
কেতাদুরস্ত পোশাক, নিখুঁত ক্লিনসেভ আর আভিজাত্যপূর্ণ চলনবলন—বাইরে থেকে দেখে যে কারোরই মনে হবে তিনি সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তা।
অথচ বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি সরকারি কোনো চাকরিজীবী তো ননই, এমনকি সেটেলমেন্ট অফিসের মাস্টাররোলভুক্ত কোনো কর্মচারীও নন। এই ছদ্মবেশী ব্যক্তির নাম শাহজাহান কবির। সরকারি কোনো পদে না থেকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের পেশকারের দায়িত্বে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। চোখমুখে গাম্ভীর্য আর হাঁটাচলায় এমন এক আভিজাত্য, যেন সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা তিনিই!
স্থানীয় ভুক্তভোগী জমির মালিকদের অভিযোগ থেকে জানা গেছে, সাভার উপজেলা সেটেলমেন্টের বড় বরদেশী আদালতের সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা সেলিনা পারভীনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন এই কবির।
সরকারী কর্মকর্তার ছায়াতলে থেকে তিনি আদালতের পেশকারের ভূমিকা পালন করেন এবং সরাসরি নথি পরিচালনা ও মামলার শুনানিতে অংশ নেন। শুধু তা-ই নয়, শুনানির নাম করে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে ঘুষের অর্থ আদায় এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও তিনি সরাসরি তদারকি করেন।ফাইল আটকানো থেকে শুরু করে জাজমেন্টের গতিপথ বদলে দেওয়া—সবই চলে তার ইশারায়। ভুক্তভোগীদের দাবি, শুনানিটা স্রেফ নাটক, আসল খেল দেখান কবির।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগে আরও জানা যায়, এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য আলমনগর হাউজিং এলাকায় কবিরের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয় রয়েছে। সেটেলমেন্ট অফিসে আসা জমি মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কিংবা কৌশলে ফাঁসিয়ে ওই অফিসে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে বসেই চলে দরকষাকষি এবং জমির নথি সংশোধনের নামে ঘুষের অর্থ লেনদেন। সাধারণ জমির মালিকদের আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে প্রথমে কোণঠাসা করা হয়, তারপর ডাক পড়ে এই প্রাইভেট চেম্বারে। সেখানে দরদাম ঠিক হয়, গুনে নেওয়া হয় লাখ লাখ টাকার বান্ডিল।
সরকারি দপ্তরের প্রশাসনিক নজরদারির তোয়াক্কা না করে কীভাবে একজন বহিরাগত ব্যক্তি একটি সরকারি কার্যালয়ে জালিয়াতি ও চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট চালিয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে।
ঘুষ বাণিজ্য ও জালিয়াতির এই চক্রের হাত থেকে রেহাই পেতে দ্রুত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জমির মালিকরা।
এ বিষয়ে শাহজাহান কবির এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার বক্তব্য দেওয়া হয়নি।